top of page
Search

এসো এইচ. সি. আই. শিখি - পর্ব ২: বহুরূপী

  • Writer: zahidur59
    zahidur59
  • Sep 16, 2020
  • 4 min read

Updated: Sep 18, 2020


আগের পর্বে আমি যা আলোচনা করেছিলাম, সেটা আবারো সংক্ষেপে বললে - হিউমান কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন হলো আমাদের(ইন্টারঅ্যাকশন ডিসাইনারদের) দেশ। যেটা হিউমান ফ্যাক্টর ডিসাইন উপমহাদেশে অবস্থিত। এর মধ্যে আবার আমরা বিভিন্য জেলায় বসে কাজ করি। কেও ইউ -আই এ, কেও ইউ -এক্স এ, কেও আবার ইন্টারঅ্যাকশন ডিসাইনে। আবার কারো কারো সব জেলায় ঘুরে ঘুরে কাজ করতে হয়। জেলা ভিত্তিক আমাদের আচার কালচার একটু এদিক ওদিক হলেও তা সবই এসেছে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সাইকোলজির ধর্ম থেকে। আমাদের পার্শবর্তী দেশগুলোর মধ্যে আছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিসাইন আর প্রোডাক্ট ডিসাইন। ওদের মাঝেও একই ধর্মগুলি আছে কিন্তু ওরা ওদের দেশের জন্য কাজ করে। এখানে একটা কথা না বললেই নয়, এ যুগে কম্পিউটার বলতে শুধু টেবিলের উপরের জাদুর বাক্সটাই বোঝায় না। কম্পিউটার এখন আমাদের হাতের মুঠোয় মোবাইল বা ট্যাব আকারে। কম্পিউটার এখন আমাদের কব্জিতে স্মার্ট ওয়াচ হিসেবে। কম্পিউটার এখন আমাদের ক্যামেরায়, গেম কনসোলে, গাড়িতে, বাড়িতে ওয়াশিং-মেশিন মাইক্রোওয়েভ থার্মোস্ট্যাট এ, বাচ্ছাদের খেলনায়, গুগল গ্লাসে, মাথায় ভি আর সেট হিসেবে। বুজতেই পারছো আমি কোন দিকে যাচ্ছি। তাই, এটা বলার কারণ হলো, মাথায় রেখো, হিউমান ফ্যাক্টর ডিসাইন আর হিউমান কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশনের দূরত্ব দিন কে দিন কমে আসছে। ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী। আমাদের বন্দু দেশগুলোর মাঝে আমাদের আমাদের প্রভাব বেড়েই চলেছে। এখন আমাদের হিউমান -কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশনের মেইন গল্পে আসা যাক।


হিউমান -কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন গল্পের নায়ক হলো ইউসার। আর নায়িকা হলো কাজ। একটু বিদঘুটে শোনালেও এই গল্পের ভিলেন হলো কম্পিউটার বা আরেকটু প্রিসাইসলি বললে, ইন্টারফেস। স্বভাবতই নায়ক নায়িকার খুব কাছাকাছি যেতে চায়। কিন্তু তাদের মাঝের বাধা হিসাবে কাজ করছে আমাদের তৈরী করা ইন্টারফেস। এখানে রিলেটেড আমার অদৃশ্য ইন্টারফেস (ইনভিন্সিবল ইন্টারফেস) লেখাটা পড়ে দেখতে পারো। কাজে আসবে। আর যদি মনে করো অত তেল নেই তাহলে এক ব্যাক্কে বললে - ভিলেন ইন্টারফেস, নায়ক ইউসার ওর নায়িকা কাজের মাঝে যত কম বাঁধা সৃষ্টি করবে, ততো তাড়াতড়ি নায়ক-নায়িকার মনের খায়েস পূরণ হবে। বুঝতে পারছি এভাবে চিন্তা করে আমরা গল্প লিখলে আর পূর্ণদর্ঘ্য ছায়াছবি লেখা হবে না কিন্তু ব্যাপারটা আসলেই তাই। তুমি যখন কোনো ভালো ইন্টারফেস ডিসাইন করবে তখন তা দেখে কারো মাথায়ও আসবেনা যে এর পেছনে বিশাল সুখ দুঃখের গল্প আছে। দুঃখজনক হলেও এটাই ভালো ইন্টারফেস ডিসাইনের একটা মূল বৈশিষ্ট। এখন আমাদের নায়ক বা ইউসারের ব্যাপারে আসা যাক।


একটা সিস্টেম ডিসাইন করার সময় ইউসারকে প্রধানত তিনটি ভিন্ন আঙ্গিক থেকে দেখা যেতে পারে। এগুলো হলো : ১)প্রসেসর, ২)প্রিডিক্টর এবং ৩)পার্টিসিপেন্ট। সহজে বোঝার জন্য, (আমার ভাষায়) যথাক্রমে - প্রাণী, মানুষ এবং নাগরিক। আসো আমরা একে একে এদের সম্মদ্ধে কিছু জানি।


যখন একজন ইউসার কে কেবল একটা প্রাণী হিসেবে দেখা হয়, তখন তার খুব বেসিক লেভেলেটাই পর্যবেক্ষণ করা হয়। এখানে প্রাণী শব্দটা মানুষের জন্য অবমাননাকর এইভাবে চিন্তা না করে, প্রাণ আছে তাই প্রাণী এভাবে দেখো। আর বেসিক লেভেলে দেখবো বলতে বুঝিয়েছি, শুধু তার ফিজিক্যাল ক্যাপাবিলিটিজ এবং তার স্নায়ু গুলি, চোখে দেখে, কানে শোনে, ক্লিক বা ট্যাপ করতে পারে এগুলিই। তাই প্রাণী হিসাবে দেখলে একজন ইউসার কিছু ইনপুট নেয় আর তার উপর ভিত্তি করে কিছু আউটপুট বের করে। অনেকটা একটা কম্পিউটারের মতোই। এ জন্যই প্রসেসর মডেল নাম। কম্পিউটারের মতো তার স্মৃতি শক্তি আছে এবং বোঝে কি করলে কি হবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে যায়। ব্যাস এতটুকুই। ইউসার কে এই আঙ্গিকে চিন্তা করে ডিসাইন করা ইন্টারফেসের মাধ্যমে আমরা পরিমাণগত অনুসন্ধানগুলি (কোয়ান্টাটিভ এক্সপেরিমেন্ট) চালাতে পারি। একটা পেজ থেকে অন্য পেজে যেতে বা একটা কাজ সম্পন্ন করতে ইউসারের কত সময় লাগে সেইসব সংখ্যা সংক্রান্ত বিষয়ে জানা যায়।




এখন মানুষে আসা যাক। ইউসারকে মানুষ অর্থাৎ প্রেডিক্টর হিসেবে স্বীকৃতি দিলে মানতে হবে যে ইউসারের আছে একটা অতীত, কিছু অভিজ্ঞতা, চাওয়া পাওয়ার আকাঙ্খা। তার আছে বোঝার ক্ষমতা (লক্ষ করো প্রসেসর মডেলের মতো আমি "বোঝে" বলিনি)। সে অনেককিছু জানে আবার জানেনা অনেককিছু। একটু কবিতা কবিতা টাইপ শোনা যাচ্ছে কারণ দ্যাটস দা পয়েন্ট। প্রেডিক্টের মডেলে মানুষের মানবিক ক্ষমতা ও দুর্বলতার দিকে বিশেষ লক্ষ দেয়া হয়। তার মনের ভেতর প্রবেশ করে তার কি অনুভূতি কি ভাবছে এসব জানার চেষ্টা করা হয়। সেকারণেই এই মডেলে তৈরী করা ইন্টারফেসকে অবশ্যই তার ব্যাবহারকারীর জ্ঞানের সাথে সমঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। ব্যবহারকারীকে নতুন নুতুন জিনিস শিখানোর ক্ষমতা থাকতে হবে এবং ব্যাবহারকারী কোনো কাজ কিভাবে করতে হয় সে সম্মদ্ধে যা জানে তা আরো ভালোভাবে কিভাবে করা যায় সেই পথ বাতলে দেবার ক্ষমতা থাকতে হবে। এখানে ইন্টারফেস কে মূল্যায়ন করার জন্য তার গুণগত মান নিয়ে গবেষণা করা হয়। কি কি কারণে কোনো কাজ খুব সাচ্ছন্দে করতে পারে আবার কোনো কাজে আটকে যায় এসব প্রশ্নের জবার খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়।



এখন উপরে বর্ণিত দুটো দৃষ্টিকোণই একজন মাত্র ইউসেরের আর একটি মাত্র কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু ইউসার কে যখন আমরা একজন নাগরিক বা পার্টিসিপেন্ট মডেলে দেখবো তখন সবকিছুই আরেকটু বৃস্তৃত ভাবে দেখতে হবে। নাগরিক হিসাবে দেখার সময় শুধু ইউসার কি ভাবছে তা না, একই সময়ে ইউসারের আসেপাশে কি ঘটছে তা নিয়েও আমাদের মাথাব্যথা থাকবে। একই সাথে ইউসার বা আমাদের নায়ক আরো কি কি নিয়ে ব্যাস্ত, একই সময়ে আরো কার কার সাথে তার আদান প্রদান চলছে, আর কে কে তার দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করছে। তার মানসিক চাপ এখন কেমন। সে আমাদের নায়িকা বা কাজের প্রতি কতটুকু মনোযোগ দিতে সক্ষম এবং আমাদের এই কাজটা এই মুহূর্তে তার জন্য কতখানি গুরুত্বপূণ এ সবই। তাই ইউসার কে এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে ইন্টারফেস তৈরী করার সময় বর্তমার পরিস্থিতি বা কনটেক্সট এর ব্যাপারটা চলে আসে। এবং সেটা বোঝার জন্য আমাদের ইউসারকে ওই পরিস্থিতিতেই গবেষণা করতে হবে। যেমন আমরা যদি একটা জিপিএস এপ্লিকেশনের ইন্টারফেস ডিসাইন করতে চাই তাহলে আসল পরিস্তিতি বোঝার জন্য আমাদের ইউসার কে সত্যি সত্যি গাড়ি চালানো অবস্থায়ই পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যেটাকে ইন সিচু স্টাডি বলে।



এই হলো ইউসার কে তিনটি ভিন্ন আঙ্গিক থেকে দেখার ঘটনা। অবশ্য এখানে একটা জিনিষ বলে রাখা দরকার, অনেকের মনে হতে পারে যে এই একটা দৃষ্টকোণ আরেকটার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। যেমন নাগরিক হিসেবে দেখলে এমনিতেই মানুষ হিসেবে দেখা হয়ে যাবে। আর মানুষ তো প্রাণীই। বেপারটা তা না। এই তিনটি ভিন্ন আঙ্গিকেরি ভিন্ন ভিন্ন সুবিধা অসুবিধা আছে যেগুলি নিয়ে আমরা পরে সময় মতো আলাপ করবো। এখন শুধু জেনে রাখো, বিভিন্ন প্রয়োজনের ইউসার কে এই তিনটি আঙ্গিক থেকেই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে দেখতে হয়।


যাহোক এই লেখায় আমার হিউমান কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশনে সাইকোলজির ভূমিকা নিয়ে কথা বলার কথা ছিল। সেটা না হলেও পরবর্তী লেখায় বলার জন্য যে দরজাটা খোলার দরকার ছিল সেটা খোলা হলো।




 
 
 

Comments


Logo-pixelman.png
bottom of page