আরামে অসাড়
- zahidur59

- Mar 7, 2021
- 2 min read

নামাজ পড়তে বেড়িয়েছি, কাঁচাপাকা দাড়িয়ালা এক ভদ্রলোক পাশের গলির মুখ থেকে ফস করে বেরিয়ে একটা লম্বা সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন কেমন আছেন ভাই?
সকালে বের হয়েছিলাম দেশি মুরগির খোঁজে। অনেক খুঁজে অবশেষে তিনটা মুরগি আরেকটা মোরগের দেখা মিললো। বেশ চড়া দামে বেঁচে যখন মুরগিয়ালা আমার মুরগিগুলো প্রসেস করছিল, দেখলাম ফার্মের মুরগির খাঁচার দরজাটা খোলা। আর সেই খোলা দরজায় দাঁড়িয়ে বেশ নাদুস-নুদুস থলথলে একটি মুরগি খুব মনোযোগ দিয়ে মুরগিওয়ালার কাজকর্ম দেখছে। মনে আছে ছোটবেলায় ঠিক যখনি হয়তো নাস্তা করতে বসেছি, হটাৎ দোতালা বাড়ীর কোনো এক তলা থেকে এক আত্মচিৎকার শোনা গেল “এই মুরগি ছুঁটে গেছে!” আর অমনি ব্যাস, আন্ডা বাচ্চারা সব যে যার খানাদানা বই খাতা লুডুর গুটি উল্টে ফেলে মুহূর্তে জাস্টিস লিগ এর মত একজোটে হাজির, ছোটা মুরগি ধরার জন্যে। সেই লিকলিকে এক ফুটি দেশি মুরগি অবশ্য ততক্ষনে জ্যাকি চ্যাং এর মতো বিছানার তলা থেকে বেড়িয়ে বিছানার নতুন চাদর মাড়িয়ে সাদা কালো টিভি ডিঙিয়ে জানালার গ্রিলে বাড়ি খেয়ে ছোটো রানার দু পায়ের ফোরক গোলে খোলা দরজা পেরিয়ে বাউন্ডারির দেয়াল টপকে পাশের বাড়ির উঠানে মহা সুখে ঘাস বিচালি ঠুকরে বেড়াচ্ছে। আমরাও গোটা সাতেক টপাটপ দেয়াল টপকে মাঠে নামলেই খেলা শুরু হতো। লেট্ দা চেস বিগেইন। অবশেষে দশ পনেরো মিনিট পর জ্যাকি চিকেন সবার ঘাম ছুটিয়ে আমাদের হাতে ধরা দিতেন। এরকম প্রায়ই কোনো না কোনো মুরগি ঠুকরে পায়ের রশি খুলে আমাদের স্বল্প দৈর্ঘ্যে হাই এড্রেনালিন যুক্ত বিনোদনের ব্যবস্থা করে দিতো। অবশ্য মাঝে মধ্যে আমরাও বড়োদের চোখ এড়িয়ে রশি খুলে দিতাম আমাদের জন্যই।
যাহোক এই ফার্মের মুরগীটাকে দেখে বেশ খারাপই লাগছিলো। বেচারার চোখের সামনে তার সাথীদের পরিণতি দেখার পরও খোলা দরজা বেয়ে তিন ফুট উপর থেকে লাফিয়ে নামবার সাহস পাচ্ছে না। দেখে মনে হচ্ছিলো পালানোর ফন্দি তো দূরের কথা পালানোর কন্সেপ্টই তার মাথায় নেই।
আমিও হাসিমুখে কাঁচাপাকা দাড়িয়ালা ভদ্রোলোকের সালামের জবাব দিয়ে বললাম জি ভালো আপনি কেমন আছেন? ওদিকে অবশ্য মাথায় অন্য প্রশ্ন চলছে, ব্যাটার ধান্দাটা কি? দেখলাম উনি আরেকটা হাসি দিয়ে আমার দিকে এগিয়ে না এসে গট গট করে সোজা মসজিদের দিকে এগিয়ে চললেন। আমি বুঝতে পারলাম উনি আসলে আমাকে পরিচিত কেও ভেবেছিলেন। কিন্তু তারপর দেখলাম উনি সামনের এক রিক্সায়ালাকেও একই ভাবে সালাম দিয়ে হাসি মুখে জিজ্ঞেস করলেন কেমন আছনে ভাই? আমি বুঝে একটু আসস্থ হলাম যে উনার মাথায় হালকা বাতিক আছে। তা নাহলে অপরিচিত হলেও কারো সাথে হাসি মুখে কুশল বিনিময়ের কনসেপ্ট তো অনেক আগেই উঠে গেছে। অবশ্য নিজের জন্য একটু খারাপও লাগলো। মনের সরলতা এখন ফার্মের মুরগিটার মতো সন্দেহের খাঁচায় বন্দি। মাঝে মধ্যে কেও এসে দরজা খুলে দিলেও বের হয়ে আসার সাহস পায়না।



Comments