top of page
Search

এসো এইচ. সি. আই. শিখি - পর্ব ৩: মনমাঝি (প্রযত্নে - বিহেভিয়ারিলিজম, কগনিটিভিজম এবং ফাঙ্কশনালিজম)

  • Writer: zahidur59
    zahidur59
  • Sep 18, 2020
  • 3 min read

Updated: Sep 19, 2020



আগের লেখায় আমরা আলাপ করেছি ইউসার কে - প্রসেসর, প্রিডিক্টর এবং পার্টিসিপেন্ট এই তিনটি আঙ্গিকে দেখার বিষয় নিয়ে। এখন আসা যাক এই আঙ্গিকগুলো কোথা থেকে এসেছে সে বিষয়ে। তার জন্য আমাদের চলে যেতে হবে হিউমান কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশনের একটা মূল উপাদান, সাইকোলজিতে। তার আগে বলে রাখি এই লেখাটা একটু রস কস বিহীন কাঠখোট্টা লাগতে পারে তবে ইন্টারঅ্যাকশন ডিসাইনারদের জন্য বিষয়গুলি জানা থাকা ভালো। ঠিক আছে শুরু করা যাক।



প্রসেসর ভিউ এসেছে সাইকোলজির বিহেভিয়ারিলিজম বা আচরণবাদী (বাংলী মনস্তত্ব বিভাগ সঠিক কি নামে ডাকে আমার জানা নেই) চিন্তা থেকে। নব্বই শতকের গোড়ার দিকে মনস্তত্ব বিভাগে এই মত আধিপত্য বিস্তার করা শুরু করে। সোজাসাপ্টা অতি সংক্ষেপে বললে, এই মতবাদে, মনস্তত্ত্বের প্রধান কর্মক্ষেত্র হলো চোখে দেখা আচার আচরণ নিয়েই কাজ করা। অন্তরনিহিত আরো কি কি কারণ থাকতে পারে তা খুঁজে বের করার পেছনে সময় দেয়ার দরকার নেই। আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে উইকিপিডিয়ার বিহেভিয়ারিলিজম আর্টিকেলটা পরে দেখতে পারো কিন্তু এই লেখায় আমরা আমাদের ভূবনে বিহেভিয়ারিলিজমের ভূমিকাতেই আগ্রহই। বিহেভিয়ারিলিজমের মত ধরেই প্রসেসর ভিউ বলে - কিভাবে ডিসাইন করলে ইউসার সঠিক ভাবে কাজ করতে পারবে সেটা খোঁজার জন্য ইউসার কেন এমনটা করে সেটার পিছনে সময় দেয়ার দরকার নাই। আমরা ডিসাইনাররা স্বভাবতই হরহামেশা এ কাজটা করে থাকি। সাধারণ বুদ্ধি ব্যবহার করে একটা ডিসাইন দুই তিনটা আঙ্গিকে বানিয়ে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী কোনটা বেছে নেই সেটা দেখি। কেন নিলো সেটা নিয়ে আমাদের খুব একটা মাথা ব্যথা হয় না। এতে হয়তো আদর্শ ডিসাইনটা করা নাও হতে পারে কিন্তু সুবিধা হলো খুব কম সময়ে কম খরচে একটা কার্যকরী সমাধানে পৌঁছানো যায়। আর সংখ্যা সংক্রান্ত বিষয়ে (কোয়ান্টিটিভ ডাটা) জানার জন্য এই ভিউটা বেশ ভালো কাজ করে সেটা আগের লেখাটাতেই জেনেছি। তো আমরা যদি অলরেডি এই কাজ করেই থাকি তাহলে শুধু শুধু এখানে সাইকোলোজিকে টেনে এনে ব্যাপারটা জটিল করার দরবারটা কি? সেই জবাব দেবার আগে আসো খুব দ্রুত বাকি ভিউগুলোর সাইকোলজিকাল সাইড গুলি দেখে ফেলি।



প্রিডিক্টর ভিউ এসেছে সাইকোলজির কগনিটিভিজম শাখা থেকে। বাংলায় মনস্তত্ত্বের ভাষায় কগনিটিভিজম কি বলে জানা নেই আর সুন্দর কোনো বাংলা প্রতিশব্দও খুঁজে পাচ্ছিনা কিন্তু যাহোক, কগনিটিভিজমের শুরু দর্শন বিদ্যায়। মানুষ কি সাদা কাগজ নিয়ে জন্মায় না পূর্বে থেকেই কিছু কিছু জিনিস শিখে আসে এইসব দার্শনিক প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে কগনিটিভিজমের শুরু। দর্শন বিদ্যা দিয়ে শুরু হলেও উনিশশো পঞ্চাশ সালের দিকে কগনিটিভিজম, বিহেভিয়ারিলিজমের বিপরীতে মনস্তত্ব বিদ্যায় প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। কিন্তু সরাসরি সাইকোলজির একটি শাখা না হয়ে ভিন্ন একটা ধারা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্টিত করেছে। কারণ, কগনিটিভিজম মূলত এসেছে সরাসরি সাইকোলজির সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন সব বিদ্যায় বিশেষজ্ঞ লোকদের কাছ থেকে। যেমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, কম্পিউটার সাইন্স, নিউরোসায়েন্স, লিঙ্গুইস্টিক এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের ব্যাপক গবেষণার ফল হিসেবে।

তা যাহোক আমাদের যেটা জানলেই চলবে সেটা হলো, কগনিটিভিজমের প্রধান ব্যাবসা হলো মানুষের মাথার ভিতরের জগৎ নিয়ে। মাথার ভিতরের জগৎ বলতেই অনেক কিছু চলে আসছে। মানুষের বোধ বা উপলব্ধি, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, সৃজনশীলতা এ সবই তার মাথার ভিতরে বসবাস করে।

কি ঘটছে বা ঘটতে চলেছে তা অনুধাবন করাটা বা প্রিডিক্ট করাটাও কিন্তু মাথার ভেতরেরই ঘটনা। তাই বোঝাই যাচ্ছে, স্বভাবতই কগনিটিভিজম মতবাদ থেকে আসা প্রিডিক্টর ভিউ জানতে আগ্রহী ইউসারের মাথার ভিতরে কি ঘটছে। আমাদের ইন্টারফেসে কি করলে তার কাৰ্য্য হাসিল হবে সে বেপারে সে কিভাবে কোন সির্দ্ধান্তে পৌঁছাচ্ছে? ইন্টারফেসে তার কোনো একটা একশনের বিপরীদে কি ঘটতে পারে সে ধারণাটা সে অ্যাকশনটা নেবার আগেই কিভাবে তার মাথায় দাড় করাচ্ছে ? এইসব প্রশ্নের জবাবের খোজ করা আর কি।



এখন যদিও প্রসেসর আর প্রিডিক্টর ভিউগুলি সরাসরি সাইকোলজির বিহেভিয়ারিলিজম ও কগনিটিভিজম শাখার প্রতিফলন হলেও তিন নম্বর ভিউটা, অর্থাৎ পার্টিসিপেন্ট ভিউ কিন্তু সরাসরি সাইকোলজির কোনো শাখা থেকে আসেনি। সাইকোলজিতে এর কাছাকাছি যা আছে তা হলো ফাঙ্কশনালিজম ও সিস্টেম সাইকোলজি যারা যথাক্রমে কোনো একটা বিশেষ পরিবেশে এবং জটিল অবস্থার মাঝে মানুষের আচার আচরণ নিয়ে কাজ করে। পার্টিসিপেন্ট ভিউটা মূলত বের হয়ে এসেছে হিউমান ফ্যাক্টর ইঞ্জিনিয়ারিং আর হিউমান কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশনের মূল গবেষণা থেকেই। পার্টিসিপেন্ট ভিউটা আগের দুটো ভিউ কে আরো বড় পরিসরে আসে পাশের পরিবেশকে সহ বিবেচনা করে এই যা।



এই হলো আমাদের তিনটি ভিউ এ সাইকোলজির অবদানের অতিবো, অতিবো সংক্ষেপ গল্প। এখন ওই প্রশ্নটায় ফিরে যাই। এখানে শুধু শুধু সাইকোলোজিকে টেনে আনার দরবারটা ছিল কি? টানা এই কারণে যেন আমরা অনুধাবন করতে পারি - এই তিনটি ভিউ নিয়ে কাজ করার পদ্ধতিগুলি কি কি হতে পারে তা নিয়ে আমাদের একেবারেই নতুন করে গবেষণা করার দরকার নেই। আমার খুব সহজেই সাইকোলজির অনেক ঘাম ঝরিয়ে শেখা পদ্ধতি গুলো ধার করে আমাদের আঙ্গিকে সাজিয়ে আমাদের কাজে ব্যবহার করতে পারি। তবে আমাদের আগে জানতে হবে কি কি ধার করতে হবে। ওই বিষয়ে আমরা পরে সময় সুযোগ মতো আলোচনা করবো। এখনকার মতো পরের লেখায় আমরা সরাসরির কারসাজি ও মানবীয় শক্তি অর্থাৎ ডাইরেক্ট ম্যানুপুলেশন ও হিউমান এবিলিটি নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাল্লাহ।



 
 
 

Comments


Logo-pixelman.png
bottom of page