top of page
Search

এসো এইচ. সি. আই. শিখি - পর্ব ১: আমি কার বাবা রে?

  • Writer: zahidur59
    zahidur59
  • Sep 13, 2020
  • 5 min read

Updated: Sep 16, 2020


আগের পোস্টে আমি আমাদের(ইন্টারঅ্যাকশন ডিসাইনারদের) অজ্ঞতার ব্যাপারে অজ্ঞতা নিয়ে বেশ বড় বড় কথা বলেছি। এখন কাজের কথায় আসা যাক। মানব ও বুদ্ধি যন্ত্রের ইন্টারঅ্যাকশন নিয়ে কাজ করতে গেলে কি কি বিষয়ে আমাদের সম্মুখ জ্ঞান থাকা দরকার তা নিয়ে পর্যায়ক্রমে কিছু পোস্ট করবো বলে ঠিক করেছি। না এখানে কোনো সাবজেক্টের কোর্স করানো হচ্ছে না। এই লেখাগুলোর উদ্দেশ্য হবে এই লাইনে আমরা যারা কাজ করছি বা করতে চাই তাদের কিসের পর কি কি (বা আরো কি কি ) জানতে হবে সেই সম্মদ্ধে একটা পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরা। তার আগে বলে নেই আমি যা বলবো তা আমার মনগড়া কথা না। জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি প্রদত্ত হিউমান -কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন এর উপর একটা প্রোগ্রাম করতে গিয়ে যা শিখেছি বা যা আমার কাছে চমকপ্রদ লেগেছে তাই শেয়ার করবো। একটু নিজস্ব বাঙালি আঙ্গিকে বলার ইচ্ছা আছে এই যা। তবে একটা সংবিধিবদ্ধ সতর্ক বাণী দিয়ে নেই, আমি যখন "আমরা" শব্দটা ব্যবহার করবো তখন আমি ইন জেনারেলি মিন করে বলবো। জ্ঞানী গুণীজনদের এটাকে পার্সোনালি নেবার কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা স্বঘোষিত ক্রিয়েটিভ পাবলিকদের আবার একটুতেই আতে ঘাঁ লাগার প্রবণতা আছে। ইন জেনারেলি-ই বলছি। আর ব্যাকরণ ও বানান নিয়ে যাদের বিশেষ এলার্জি আছে তাঁদের এই বস্তু খাওয়া একেবারেই নিষেধ। ঠিকআছে তাহলে এবার কাজের কথায় আসা যাক?


আমি কোথায় যাবো সেটার উত্তর জানার জন্য আগে আমার জানা দরকার আমি কোথা থেকে এসেছি এবং এখন কোথায় আছি( ডং... করে একটা শব্দ হবে এখানে)। সিরিয়ারলি, আমরা যারা ইন্টারঅ্যাকশন ডিসাইন নিয়ে কাজ করছি তারা অনেক সময়ই কয়েকটি ডিসিপ্লিন কে একসাথে গুলিয়ে ফেলি। যেমন ইউ-আই ডিসাইন, ইউ-এক্স ডিসাইন, ইন্টারঅ্যাকশন ডিসাইন, ইউ-এক্স রিসার্চ এমন কি প্রোডাক্ট ডিসাইন এগুলোকে মাখামাখি করে চিন্তা করি। কিন্তু এগুলি কে কার অন্তরভুক্ত বা পাশাপাশি অবস্থান করে সেই সম্বন্ধে একটা পরিষ্কার চিত্র আমাদের মাথায় থাকা দরকার। চলো নিচের ছবিটা একটু পর্যালোচনা করি -

ছবিটা জর্জিয়া টেক এর মত অনুযায়ী করা। লক্ষ করো এখানে "হিউমান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন" এসেছে "হিউমান ফ্যাক্টর ইঞ্জিনারিং" থেকে। হিউমান ফ্যাক্টর ইঞ্জিনারিং হলো, মানুষের জন্য কোনো বস্তুকে সহজযোগ্য করেতোলা যায় কি করে তা নিয়ে গবেষণালব্ধ জ্ঞান। সেটা যে কোনো বস্তুই হতে পারে। একটা গাড়ির সিট্ কিভাবে বানালে ড্রাইভারের জন্য ড্রাইভিং এর কাজটা আরো সহজ হবে অথবা একটা সুটকেস কিভাবে বানালে অনেক মাল ভরা যাবে আবার টানা হেঁচড়া করতে অসুবিধা হবে না, এইসব এইসব। এখন খেয়াল করে দ্যাখো, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিসাইন, হিউমান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন এবং প্রোডাক্ট ডিসাইন সবই এসেছে হিউমান ফ্যাক্টর ইঞ্জিনারিং থেকে। এর মধ্যে হিউমান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশনেই আমরা মনোযোগ দিবো। তবে তা করার আগে, বাকিগুলোকে সহজে আমাদের মাথায় রাখার জন্য এভাবে দেখতে পারো - ইনডিস্ট্রিয়াল ডিসাইন, যার অবয়ব আছে, ধরা ছোঁয়া যায় এমন সব বস্তু নিয়ে কাজ করে। গাড়ি,বাড়ি, হাতুড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি। আর প্রোডাক্ট ডিসাইন এমন জিনিস নিয়ে কাজ করে যার কোনো অবয়ব নেই। ধরা ছোঁয়া যায় না। যেমন ধরো কোনো একটা শিল্পীর গানের অ্যালবাম। আমি কিন্তু রেকর্ডেড গানের কথা বলছি না, জাস্ট দা কনসেপ্ট অফ দা এলবাম। কত গুলো গান থাকবে, কোনটা কার আগে আসলে শ্রোতার বেশি ভালো লাগবে, সিডিতে যাবে না এলপি তে এইসব খুব কেয়ারফুলি ডিসাইন করা হয়। আর হিউমান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশ হলো এ দুটোর মাঝামাঝি, ঠিক ধরা ছোঁয়া যায়না আবার একটা অস্তিত্বও আছে এমন জিনিস নিয়ে কাজ করা। যেমন ধরো - এম এস ওয়ার্ড ফাইল। এখানে একটু লবন মিশিয়ে খেতে হবে কারণ জিনিসটা আরেকটু সুক্ষ কিন্তু সহজে মাথায় রাখার জন্য আপাতত এটাই যথেষ্ট। আর হিউমান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশ থেকে যে তিনটি শাখা ইউ -আই, ইউ -এক্স এবং ইন্টারঅ্যাকশন ডিসাইন বের হেয়েছে তা নিয়ে আমরা পরে আলাপ করবো। এখন আমাদের মধ্যমনিতে যাওয়া যাক।



হিউমান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশনের ব্যবসা হলো মানুষ আর কম্পিউটারের মধ্যে আদান প্রদান কিভাবে আরো সহজ ও কার্যকরী করা যায় তা নিয়ে গবেষণা করা। লক্ষ করে দেখো আমি বলিনি যে - মানুষ কিভাবে আরো সহজে ও কার্যকর ভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করবে তা গবেষণা করা। "আদান প্রদান" শব্দ বিশেষ ইচ্ছে করেই ব্যবহার করা হয়েছে। এই সুক্ষ তফাৎ টা নিয়ে আমরা সামনে আরো আলোচনা করবো। এখন শুধু মাথায় একটা কোয়েশ্চেন মার্ক থাকলেই চলবে।

যাহোক হিউমান ফ্যাক্টর ইঞ্জিনারিং এর মূল দুটো উপাদান হলো - ১) পিওর ইঞ্জিনারিং, এবং ২) সাইকোলজী। তাই স্বভাবতই হিউমান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশনো এই একই উপাদানগুলি নিয়ে কাজ করে। তবে এখানে পিওর ইঞ্জিনারিংটা হলো কম্পিউটার সাইন্স আর সাইকোলজীটা, সাইকোলজী-ই। তাই বোঝাই যাচ্ছে এই লাইনে কাজ করতে হলে আমাদের এই দুটো বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। ভুল বুঝোনা, আমি বলছিনা আমাদের কম্পিউটার সাইন্স থেকে পাস করতে হবে অথবা সাইকোলজিস্ট হতে হবে। তবে যতটা জানা জরুরি তা অবশ্যই জানতে হবে। আবারো স্মরণ করিয়ে দিতে চাই আমার উদ্দেশ্য কিসের পর কি কি (বা আরো কি কি ) জানতে হবে সেই সম্মদ্ধে একটা পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরা।

আসা করি এখন চিত্রে কার অবস্থান কোথায় সেই সম্মন্ধে একটা আইডিয়া হেয়েছে? একবারে বেশি না নিয়ে এখন শুধু যতটুকু বলা হলো ততোটুকু অনুধাবন করলেই চলবে। পরের পর্বে আমরা ইউজার্স এর ইউসেজ কে বিভিন্ন ভঙ্গিতে দেখার সময় সাইকোলজীর ব্যাপারটা কিভাবে আসে তা দেখবো।


[পরে সংযুক্ত ]


আমাকে আসিফ(আমার পুরোনো কলিগ বন্ধু) বললো প্রোডাক্ট ডিসাইন টা আরেকটু ক্লিয়ার করে বলতে। তাই আমি এই কনটেক্সটে প্রোডাক্ট ডিসাইন বলতে কি বোঝাচ্ছে আরেকটু বড় করে বলি -


ধরো তুমি অনলাইনে তোমার একটা পেইন্টিংয়ের হার্ড কপি বিক্রি করবে বলে ঠিক করলে। ধরো তুমি ঠিক করলে কেও যদি শুধু পেইন্টিংয়ের প্রিন্ট কপি কেনে তাহলে একশো টাকা। কেও যদি প্লাস্টিকের ফ্রেমে বাঁধানো অবস্থায় কিনতে চায় তাহলে একশো বিশ টাকা। আর যদি কেও আরো ভালো পেপারে এবং কাঁঠের ফ্রেমে বাঁধানো অবস্থায় কিনতে চায় তাহলে তিনশ টাকা, সাথে অন্য একটা পেইন্টিং এর প্রিন্টআউট ফ্রি। এখন, তোমার এই তিনটা ডিল(Deal) কিন্তু এক একটা প্রোডাক্ট। এই ডিল গুলি কিন্তু অনেক চিন্তা ভাবনা করে ডিসাইন করেছো। যেমন ধরো - তোমার পেইন্টিংটার মূল্য আসলে একশো পাঁচ টাকা। তাই শুধু পেইন্টিংটা পাঁচ টাকা লসে বিক্রি করলেও তুমি গবেষণা করে দেখছো শতকরা নব্বই ভাগ লোকই আসলে বাঁধানো অবস্থায়ই কেনে। আর প্লাষ্টিক ফ্রেমে বাঁধাই করতে তোমার খরচ হয় একশো পাঁচ টাকা। তাই মূল পেইন্টিং লসে বিক্রি করলেও আসলে টোটাল সেলে তোমার লাভ বেড়ে যাচ্ছে। প্লাস মূল পেইন্টিংটার দাম কম রাখাতে সেল বেড়ে যাবে কারণ তুমি গবেষণা করে দেখেছো মানুষের মনে "আমি কম দামে বেশি দামের একটা পেইন্টিং পাচ্ছি" সাইকোলজিটা কাজ করবে। আবার এই সাইকোলজিটা গবেষণা করতে গিয়ে তুমি দেখেছো যে কিছু কিছু মানুষ পয়সার ব্যাপারে কেয়ার করবেনা। তাঁদের জন্য তোমার তিন নম্বর ডিলটা তৈরী করেছো যেটাতে তোমার আসলে খরচ হয় দেড়শো টাকা। কিন্তু যারা টাকার কেয়ার করবেনা তারা আরেকটা পেইন্টিং সাথে ফ্রি পেলে কিনতে আরো উৎসাহ বোধ করবে। প্লাস খুব সম্ভবনা আছে তারা সেকেন্ড পেইন্টিংটাও বাঁধিয়ে দেবার অর্ডার করবে। লাভের উপরে লাভ আর কি।


যাহোক তোমার এই রিসার্চ গবেষণা কিন্তু সব এই তিনটা ডিল ঠিক ভাবে তৈরী করার জন্য। আবারো, ডিলগুলিকে তুমি যদি এক একটা প্রোডাক্ট নামে ডাকো তাহলে আগের বাক্যটাকে এভাবে বলা যায় - তোমার এই রিসার্চ গবেষণা কিন্তু এই তিনটা প্রোডাক্ট ডিসাইন করার জন্য।


এখন এই প্রোডাক্টগুলির কিন্তু একচুয়াল পেইন্টিংটার বা কাঠের ফ্রেমেটার মতো কোনো বস্তুগত অস্তিত্ব নেই। এরা কন্সেপচুয়াল লেভেলেই এক্সিস্ট করে। কিন্তু ব্যাপক গবেষণার কাজ আছে। তাই সেই গবেষণার কাজটা আমাদের এই কনটেক্সটে বা প্রদত্ত ছবিতে(হিউমান ফ্যাক্টর ইঞ্জিনারিং এর চার্টটাতে) প্রোডাক্ট ডিসাইনেরি অন্তর্ভুক্ত বা ঘুরিয়ে বললে, আমাদের এই কনটেক্সটে প্রোডাক্ট ডিসাইন এইসব নিয়ে কাজ করাকে বলে। আসা করি ব্যাপারটা কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে?


আবারো বলছি এটা চার্টটাকে সহজে মনে রাখার একটা উপায়। ইনডিস্ট্রিয়াল ডিসাইন বস্তুগত অস্তিত্ব আছে এমন জিনিস নিয়ে কাজ করে। প্রোডাক্ট ডিসাইন বস্তুগত অস্তিত্ব নাই এমন জিনিস নিয়েও কাজ করে। আর হিউমান-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশ এই দুটোর মাঝামাঝি।


 
 
 

Comments


Logo-pixelman.png
bottom of page