top of page
Search

অদৃশ্য ইন্টারফেস (ইনভিন্সিবল ইন্টারফেস)

  • Writer: zahidur59
    zahidur59
  • Sep 12, 2020
  • 3 min read

Updated: Sep 15, 2020


(ফেসবুকে ডিস্টর্টেড ডিসাইনারস কমিউনিটি তে করা কমেন্ট। ভাবলাম কিছুটা এডিট করে এখানেও টুকে রাখা যাক।) মানব-কম্পিউটার ইন্টারফেস জ্ঞানের পরিভাষায়, অদৃশ ইন্টারফেস (ইনভিন্সিবল ইন্টারফেস) এটা নয় যে, যে কোনো চাক্ষুষ সাদৃশ্য নেই বা (হাত কি মাউস দিয়ে) স্পর্শ করা যায়না এমন ইন্টারফেস। বরং সঠিক সংজ্ঞাটি হলো, যে ইন্টারফেস বস্তুত থাকার পরেও ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বা গুণগত মানের কারণে ব্যবহারকারীর কাছে অদৃশ্য হয়ে গেছে।

অভিজ্ঞতার কারণে অদৃশ্য এমন একটি ইন্টারফেসের উদাহরণ হলো - কীবোর্ড। কম্পিউটার পরিচালনার জন্য এটি একটি অপরিহার্য ইন্টারফেস কিন্তু অভিজ্ঞতার কারণে দৈনিক ব্যবহারকারীর কাছে এটি প্রায় অদৃশ্য। না তাকিয়েও অভিজ্ঞরা সাচ্ছন্দের সাথে এটি ব্যবহার করতে পারে। তাদের বিন্দু মাত্র চিন্তা করতে হয়না কোন চাবিটা কোথায় আছে। এখন গুণগত মানের কারণে অদৃশ্য এমন একটি ইন্টারফেসের উদাহরণ দেবার আগে বলে রাখা দরকার, কেন অদৃশ্য ইন্টারফেস নিয়ে আলোচনা করাটা জরুরি।

বস্তুত, মানব কেন্দ্রিক ডিজানিংয়ের সময় কোনো একটা ইন্টারফেসকে গুণগত ভাবে অদৃশ্য ইন্টারফেসের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারাটাই হোলো চরম লক্ষ্য অর্জন করা। যদিও সেটা সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয় তারপরও যতদূর কাছাকাছি যাওয়া যায়, সেটাই কাম্য। গুনগত ভাবে অদৃশ ইন্টারফেস কি সেটা ভালোভাবে বোঝার আগে মানুষ -কম্পিউটার ইন্টারফেস জ্ঞানের আরো যে তিনটি পরিভাষার সাথে পরচিয় হয়া দরকার সেগুলো হলো, ১. প্রতিক্রিয়া চক্র (ফিডব্যাক সাইকেল) ২. কার্যকর করার রাস্তা (গল্ফ অফ এক্সেকিউশন), এবং ৩. মূল্যায়ন করার রাস্তা (গল্ফ অফ এভালুয়েশন)


প্রতিটি প্রতিক্রিয়া চক্রকে কর্ম পরিচালনার এক একটি অনু হিসাবে ধরা হয়। আবার, কার্যকর করার রাস্তা এবং মূল্যায়ন করার রাস্তা এদুটো ধাপের সমন্বয়ে একটি প্রতিক্রিয়া চক্র সম্পাদিত হয়। সহজ ভাষায়, একজন ব্যাবহারকারী যখন বুধীমান-যন্তের মাধ্যমে কোনো একটা কর্ম পরিচালনা করতে চায়, তখন তাকে মূলত ছয়টি পরিধাপ সম্পন্নের মাধ্যমে একটি প্রতিক্রিয়া চক্র(ফিডব্যাক সাইকেল) সপন্ন করতে হয়। এর মধ্যে প্রথম তিনটি হলো কার্যকর করার রাস্তার অন্তর্গযুক্ত আর শেষ তিনটি মূল্যায়ন করার রাস্তার। নিম্নে পরিধাপ গুলি বর্ণনা করা হলো - ১. কার্যকর করার রাস্তা: ক ) আমি কি করতে চাই তা অনুধাবন করা খ ) প্রদত্ত যন্ত্রের মাধ্যমে তা কিভাবে করা যেতে পারে তা অনুধাবন করা গ ) যন্ত্রের প্রদত্ত ইন্টারফেসের মাধ্যমে তা পরিচালনা করার প্রচেষ্টা চালানো ২. মূল্যায়ন করার রাস্তা: ঘ ) ব্যাবহারকারির প্রচেষ্টার প্রতিত্তরে যন্ত্রের ইন্টারফেসে হালনাগাদ পরিবর্তন আসা ঙ ) ইন্টারফেসে হালনাগাদ যে পরিবর্তন আসলো তার মানেটা কি সেটা ব্যবহারকারীর অনুধাবনে আসা। চ ) অনুধাবন করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ কি তা বেদবিচার করা।

উদাহরণ হিসাবে বলাচলে, (ক) একজন ব্যাবহারকারী প্রথমে চিন্তা করলো সে যে দলিলটি(ফাইল) নিয়ে কাজ করছে তা এখন সংরক্ষণ(সেভ ) করা প্ৰয়োজন। (খ) সে তখন অনুধাবন করলো তা করার জন্য তাকে তালিকা থেকে ফাইলে ক্লিক করে সংরক্ষণে ক্লিক করতে হবে। (গ ) এবং সে তা করলো। (ঘ) তার ফলে ইন্টারফেসে একটা বার্তার পাতা আসলো - "তুমি কি নামে সংরক্ষণ করতে চাও?" (ঙ) ব্যাবহারকারী সেটা পড়ে অনুধাবন করলো সংরক্ষণ করতে হলে তাকে একটি নাম দেয়া প্রয়োজন। (চ) ব্যাবহারকারী অনুধাবনে আসলো তাকে এখন একটি নাম বিবেচনা করতে হবে। এটাই হলো একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া চক্র। এখন এই ছয়টি ধাপ পার হতে বা একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া চক্র সম্পাদন করতে ব্যাবহারকারির কত সময় লাগলো তার উপর ইন্টারফেসের গুণগত মান নির্ভর করে। সময় যত কম লাগে ইন্টারফেসের গুণগত মান তত বেশি ভালো বলে বিবেচিত হয়। উপরের দলিল সংরক্ষণের উদাহরণটি অনুসরণ করে, প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে গুগল ডক্সে দলিল সংরক্ষণ করার কাজটিকে শুন্য সময়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এটি একটি গুণগত ভাবে একশত ভাগ অদৃশ্য ইন্টারফেসের উদাহরণ। এখানে উল্লেক্ষ যে, গুগল ডক্সে দলিল সংরক্ষণ করার কর্মটি ব্যাবহারকারীদের কার্যকর করতে হয়না তার মানে এই না যে সংরক্ষণের প্রক্রিয়াটি পুরো ব্যবস্থা থেকে একেবারে উঠে গেছে। ব্যাপারটা এভাবে দেখা যেতে পারে, সংরক্ষণের প্রক্রিয়া এখনো বিদ্যমান কিন্তু ব্যাবহারকারির কাছথেকে সেটা শুন্য সময় ব্যায় করে। আবারো, সব ক্ষেত্রে হয়তো একশত ভাগ অর্জন করা সম্ভব নয় কিন্তু যতটা পারা যায় ততটা অর্জন করাই লক্ষ্য।



 
 
 

Comments


Logo-pixelman.png
bottom of page