এসো এইচ. সি. আই. শিখি - পর্ব ৪: কল্পকথা (প্রসেসর, প্রিডিক্টর ও পার্টিসিপেন্ট ভিউ এর অনুশীলন)
- zahidur59

- Sep 19, 2020
- 3 min read
Updated: Sep 21, 2020

ডিং ডিং ডিং! এখন একটা পরীক্ষা নেয়া হবে! ঘাবড়ানোর দরকার নেই। সঠিক উত্তর দেবার জন্য কাওকে জাতীয় পুরুস্কার দেয়া হচ্ছে না। সত্যি কথা বলতে কোনো নির্দিষ্ট সঠিক উত্তরও নেই। শুরুমাত্র আগের লেখাগুলির(পর্ব ২ ও পর্ব ৩) বিষয় নিয়ে একটু মাথা খাটিয়ে দেখা আর কি। ঠিক আছে তৈরী?

একটা কাল্পনিক দৃশ্য। বই পড়া লাবনীর খুব পছন্দ। শুধু যে গল্পের বই তা না। ক্যারিয়ার গড়ার জন্য বিভিন্ন টেকনিকাল বই ও পড়ে। এখন সময়ের দাম অনেক তাই শুধু হার্ড কপি না, অন্য কাজ করার সময়ও কানে হেডফোন লাগিয়ে মোবাইলে অডিও বুক শোনে। বিশেষ করে ইউনিভার্সিটি বাসার কাছে হওয়ায় সে যখন হেঁটে হেঁটে ক্লাসে যায় বা ক্লাস থেকে ফেরে তখন। কিন্তু সমস্যা হলো হার্ড কপিতে ও যেমন সাচ্ছন্দে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নোট টুকে রাখতো সেটা মোবাইলে করা বেশ মুশকিল। একে তো মোবাইলে টাইপ করাটাই একটা কাহিনী তার উপর হাঁটার সময় এদিক ওদিক মনোযোগ দিতে হয়। এখন আমরা লাবনীকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করবো। তুমি এমন একটা এপ বানাবে যেটা তার নোট টোকার কাজটা সহজ করে তো দিবেই প্লাস লাবনীকে প্রসেসর, প্রিডিক্টর ও পার্টিসিপেন্ট এই তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকেই বিবেচনা করে তার হেঁটে হেঁটে বই শোনার এক্সপিরিয়েন্সটা আরো মজাদার করে দেবে। সম্ভব? তাহলে চিন্তা করে বলো কি কি ফীচারের মাধ্যমে তুমি সেটা করতে পারো। বলো বলতে মূলত নিজেই নিজেকে বলতে বলছি। চাইলে অবশ্য নিচে কমেন্টেও লিখে দিতে পারো। এ ব্যাপারে আমার আইডিয়াগুলি একটু পরেই শেয়ার করছি কিন্তু সেটা পড়ার আগে আমি চাই, বা আরেকটু ইন্টারেষ্টিং করার জন্য বলি, লাবনী চায় তুমি নিজে নিজে একটু চিন্তা করে কিছু একটা দাড় করাও। আচ্ছা আমি আরেকটু পরিস্কার করে দিচ্ছি।
১) লাবনী চায় সে চলতে চলতেই খুব সহজেই বইয়ের কোনো একটা অংশ বুকমার্ক করে রাখতে।
২) লাবনী চায় বইয়ের বিভিন্ন অংশের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে নোট টুকে রাখতে।
৩) আমরা প্রসেসর, প্রিডিক্টর ও পার্টিসিপেন্ট ভিউ থেকে চিন্তা ভাবনা করে দেখবো বিশেষ কোনো সুবিধা প্রদান করা যায় কিনা। খেয়াল রেখো এখানে আমরাদের জাদুর বাক্সের বাইরে চিন্তা করতে হবে অর্থাৎ সিনারিওটা কম্পিউটার কেন্দ্রিক। তাই মোবাইলের যে এক্সট্রা সুবিধাগুলো বা সেন্সরগুলো আছে সেগুলো ব্যবহার করতে পারি। ঠিক আছে পরের অনুচ্ছেদের আমি আমার চিন্তা ভাবনা শেয়ার করছি কিন্তু সেটা পড়ার আগে তোমার নিজেস্য আইডিয়া নিয়ে একটু খেলাধুলা করে নাও। আবারো, চাইলে কমেন্টে লিখে এসে তারপর বাকিটা পড়ো।
আমার উদাহরণ :
লাবনী গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেবার আগে কানে হেডফোন লাগিয়ে আমাদের কাল্পনিক এপে "হাঁটা মোড" বাটনতা চেপে মোবাইলটা পকেটে পুড়ে হাঁটা শুরু করে। তাতে আমাদের এপ আগে ঠিক যেই জায়গায় শেষ করেছিল তার দুই লাইন আগে থেকে আবার পড়া শুরু করে।

এখন প্রসেসর আঙ্গিকে, পকেটে বা হাতে যেখানেই থাকুক, লাবনী যখন খুশি না তাকিয়েই পূর্বনির্ধারিত কোন একটা হার্ডওয়ার বাটনে(পাওয়ার, ভলিউম আপ বা ডাউন হতে পারে) একবার প্রেস করে পর্যায়ক্রমে পড়ায় বিরতি(পজ) বা আবার পড়া শুরু হয়(রেইজুম) করতে পারে। লাবনী যখন ওই একই হার্ডওয়ার বাটোনটায় পর পর দুইবার প্রেস(ডাবল প্রেস) করে তখন যে অনুচ্ছেদটায় পড়া চলছিল সেটা বুকমার্ক হয়ে যায়। আর লাবনী যখন বাটনটা কিছুক্ষন চেপে রেখে ছেড়ে দেয়(লং প্রেস) তখন পড়া বন্ধ হয়ে "নোট টোকা" মোড চালু হয়। এ সময়ে লাবনী তার হেডফোনের মাইক্রোফোনে ভয়েস নোট নিতে পারে। নোট নেয়া শেষ করার জন্য লাবনী বাটনটা একবার প্রেস করলে নোটটা সেভ হয় আবার পড়াও শুরু হয়।

প্রিডিক্টর আঙ্গিকে আমরা মোবাইলের সেন্সরগুলিকে বেশ কাজে লাগাতে পারি। যেমন, "হাঁটা মোড" চালু হবার সাথে সাথেই আমাদের এপ লাবনীর হাঁটার গতি পর্যবেক্ষণ করা শুরু করতে পারে। তারপর হাঁটার গতির সাথে সমঞ্জস্য রেখে পড়ার গতিও বাড়তে কমাতে পারে। সাথে মাইক্রোফোনের মাধ্যমে আসেপাশের নয়েজ লেভেল শুনে পড়ার ভলিউমও এডজাস্ট করতে পারে। এমনকি এপ যদি টের পায় লাবনী হাঁটতে হাঁটতে হটাৎ থেমে গেছে তাহলে ক্ষনিকের জন্য পড়াও থামিয়ে দিতে পারে। এখানে আমরা আমাদের কল্পনায় ভেসে অনেক দূর যেতে পারি যেমন কেও লাবনীর নাম ধরে ডাকলে নিজেনিজেই পড়ার ভলিউম অনেকটা কমিয়ে দিতে পারি। কিন্তু আমাদের এই সুবিধাগুলি আসলেই কার্যকর কিনা সেটা মাঠে নেমে গবেষণা না করলে জানা যাবে না তাই এখানেই থামা যাক।

এখন কথা হলো লাবনী তো একটা সমাজে বসবাস করে তাইনা। তাই নাগরিক হিসেবে সমাজ থেকে তার কিছু চাওয়া পাওয়া থাকতেই পারে। সাথে তারও কিছু সামাজিক দায়িত্ব আছে। তাই নাগরিক বা পার্টিসিপেন্ট আঙ্গিকে আমরা চিন্তা করে দেখবো পত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কোনো সামাজিক সুবিধা আদান প্রদান(সোশ্যাল কম্পোনেন্ট) করা যায় কিনা। যেমন পত্যক্ষ ভাবে, লাবনী চাইলে তার নোটগুলি সবার সাথে শেয়ার করতে পারে। আবার অন্যের শেয়ার করা নোটগুলিও লাবনী সময় সুযোক মতো শুনতে পারে। এভাবে আমরা অনেক কিছুই বিবেচনা করতে পারি যেমন জিপিএস এর মাধ্যমে আমরা খেয়াল রাখতে পারি লাবনী এখন চৌরাস্তা পার হবার চেষ্টা করছে কি না। সেক্ষেত্রে আমরা জোর করে পড়া বন্ধ রাখতে পারি যেন লাবনী বেশি সতর্কতার সাথে রাস্তা পার হয়। ব্যাপারটা লাবনী ও চলমান যানবাহন অর্থাৎ গোটা সমাজের জন্যই পরোক্ষ ভাবে ভালো।
তো এই লেখায় আমরা আমাদের কাল্পনিক এপ দিয়ে আমাদের কাল্পনিক চরিত্র লাবনীর অনেক উপকার করলাম। সাথে প্রসেসর, প্রিডিক্টর ও পার্টিসিপেন্ট ভিউ এ কিভাবে চিন্তা করবো সেটার একটু অনুশীলন হয়ে গেলো। এ লেখায় ডাইরেক্ট ম্যানুপুলেশন ও হিউমান এবিলিটি নিয়ে কথা বলার কথা ছিল যেটা আমরা পরবর্তী লেখায় করবো ইনশাল্লাহ।




Comments